ডাঃ কে এম আলাউদ্দীন
চিকিৎসা -১
সকাল থেকে গলা ব্যথা, খেতে পারে তবে খালি ঢোক গিল্লেও গলার
ভেতর ব্যথা ও গরম বোধ হয়। এক ঘন্টা পূর্বে বেশ জ্বর ছিল,
বর্তমানে কম। মনে হয় আবার জ্বর আসতে পারে। প্রচন্ড দপদপানি
মাথা ব্যথা, হাত পা ঠান্ডা মনে হয়। শরীরে অল্প অল্প ঘাম। মুখ
থমথমে, লালাভ। পানির পিপাসা কম। শুস্ক, খুশখুশে কাশি। অনেক্ষণ
কাশের পর গয়ার ওঠে-------ফোনে আর কিছু জানা গেল না।
বাসার অনেকে করনা আক্রান্তের ভয় করছে। জানতে চাইলো
প্রাথমিকভাবে কোন ওষুধ সেবন করা যায় কি না।
রোগী চট্টগ্রাম থাকে, ওখানে বেশ কয়েকটি ওষুধই বানানো রয়েছে।
ওষুধগুলো ৫০সহস্রতমিক পদ্ধতির। বেলেডোনা ২/০ থেকে খেতে
বলা হলো। প্রায় ৬ঘন্টা পর পর ২বার সেবনে পর আমাকে জানালো,
সকল সমস্যাই অনেকটা কম। এর পর রোজ একবার করে ৩দিন
সেবন করে আমাকে জানাতে বল্লাম।
বিঃদ্রঃ-
হোমিওপ্যাথি লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা। এ মহামারির সময় সাধারণ
সর্দিকাশি, হাঁচি, গলাব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলে ভয় না পেয়ে, সরকারি
বিধিনিষেধ মেনে চলুন এবং সুযোগ পেলে প্রাথমিক অবস্থায়
হোমিও চিকিৎসা গ্রহণ করুন।
চিকিৎসা -২
প্রতবেশি, আত্মিয়-সজন সবাই অস্থির, ব্যস্ত, গতকাল থেকে। সর্দি-জ্বর,
হাঁচি-কাশি, মাঝে মাঝে অস্থিরতা ও পিপাসা। বয়স ২২বছর,
১সন্তানের মা। জানা গেল, ২দিন যাবৎ জ্বর, সাথে সর্দি-হাঁচি লেগেই
আছে, সর্দি পানির মতো পাতলা। ১ম দিন সকাল থেকে সর্দি-হাঁচি দেখা
দিলেও বেলা ১১-৩০থেকে জ্বর বাড়তে থাকে। বিকেলের দিকে জ্বর
তেমন ছিল না তবে প্রায় রাত১০/১১টা থেকে শীতকরে জ্বর বেড়ে যায়।
পিপাসার কথা জানতে চাওয়ায় জানা গেল, বার বার পিপাসা লাগে,
গলা শুকিয়ে যায় কিন্তু বেশী পানি পান করতে ভালোলাগে না। শরীরে
শান্তি নেই, খুব অস্থির লাগে। প্রসংগক্রমে জানা গেলঃ চারদিকে করনা
ভাইরাসের কথা, মৃত্যুর কথা শুনে সে বেশ উৎকন্ঠিত, মাঝে মাঝে
মৃত্যুর কথা ভাবে, ভয় হয়।
দেখে মনে হলো, মানসিকভাবে বেশ দূর্বল, অতৃপ্ত, প্রবল অবসাদগ্রস্ত।
অবসন্নতার জন্য হাঁটতে পর্যন্ত পারে না। সাহসের খুব অভাব। কাথা
গাঁয়ে দিয়ে শুয়ে আছ, শীত অসহ্য। আরো জানা গেল, রাতে কস্টকর
শুস্ক কাশি ছিল, কাশে কফ ওঠে না, অস্থির লাগে, কিছুতেই ভালো
লাগে না, শুতে পারে না যেন দম আটকে আসে। অনেকের ধারণা,
করনায় আক্রান্ত। সবার সিদ্ধান্তঃ আমি যেন প্রাথমিকভাবে ওষুধ দেই।
সবার প্রতি অনুরোধ করা হলো, সরকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোগীকে
একা রাখতে হবে, যথা সম্ভব দূরত্ব রেখে পরিচর্যা করতে। রোগীর
সকল দিক বিবেচনা করে, আল্লাহর নাম নিয়ে রোগীকে, আর্সেনিক
এল্ব ২/০ বিকেলে ১বার, পর দিন সকালে ১বার ও বিকেলে ১বার
নিয়ম মত সেবন করতে বলি। বলা হলো, অসুস্থতা বৃদ্ধি পেলে তরিৎ
হাসপাতালে নিতে হবে। পরের দিন জানা গেল,রোগীনি অনেকটাই
সুস্থ। আরো ২দিন পর রোগী সম্পূর্ণ সুস্থতা লাভ করে, ১০/১২
দিন হয়ে গেল এখনও তার আর কোন জটিল দেখা দেয়নি।
বিঃদ্রঃ-স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কয়েকটি ঘোষণাঃ-
১। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত সব স্বাস্থ্যবিধি অবশই মেনে চলুন।
২। নিয়মিত কুসুম গরম পানি, আদা চা এবং গরম স্যুপ পান করুন।
লবণ মিশ্রিত কুসুম-গরম পানি দিয়ে দিনে ৩/৪বার গড়্গড়া করুন,
নাকে মুখে গরম পানির ভাপ নিন।
৩। জ্বর সর্দি, কাশি গলা ব্যথা হলে বাড়িতেই আলাদা থেকে চিকিৎসা নিন।
----_-------৷ -----------+----+
আমি মনে করি
##হোমিওপ্যাথি এক অসাধারণ লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা বিজ্ঞান##
চিকিৎসা -৩
বয়স ৩০/৩২, পুরুষ, অবিবাহিত, স্বাস্থ্য স্বাভাবিক, চেহারা শ্যামল বর্ণ,
বিষন্ন, ক্লান্ত। দেখে অনকটা, রুগ্ন রুগ্ন মনে হয়। ১/০৪/২০২০ এর ঘটনা,
রোগী এসে জানালো--বিগত ৩/৪ দিন থেকে শরীর ভালো যাচ্ছে না।
রাতে বেশ গরম পড়েছিল, সকাল থেকে কাশ, কাশ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রথম দিকে সামান্য সর্দি ছিল, পাতলা। এখনো সর্দি আছে পূর্বের তুলনায়
ঘন। প্রথম থেকেই জ্বর জ্বরভাব আজ জ্বর ১০১°। সমস্ত শরীরে ব্যথা,
বেশি কাজ করতে পারছি না। মন চায় শুধু শুয়ে থাকি। কাশ খুব বেশী,
কাশলে গলা, বুক ব্যথা করে। নামাজ পড়তে কষ্ট হয়, মাথা খুব ভারী মনে
হয়, মাঝে মাঝে ব্যথা করে। কাশতে কাশতে ক্লান্ত হয়ে যাই, অনেকক্ষণ
কাশির পর সামান্য কফ ওঠে। ভয় হচ্ছে, করনায় আক্রান্ত হলো কি না।
আমার পুরনো রোগী, ২/১ দিন হোমিও ওষুধ সেবন করতে চায়।
প্রশ্ন করে জানা গেল ঠোঁট-মুখ শুকিয়ে যায়, পিপাসা বেশী, একবারে
বেশী পরিমান পানি পান করে তবে অধিক সময় পরপর, বাহ্য কঠিন।
দৈহিক দূরত্ব বজায়ে রেখে, আরো কিছু লক্ষণ জেনে তাকে
Bryonia alb 2/0 নিয়ম মতো রোজ ২ বার সেবন করতে বল্লাম।
২দিন পর রোগী জানালো, তার শারীরিক অবস্থা বেশ ভালো, কাশ
কম তবে আছে, কফ পূর্বের চেয়ে বেশি ওঠে, গলা ব্যথা নেই।
কয়েক দিন পর সে প্রায় সুস্থ হয়ে ওঠে। এখন সে সম্পূর্ণ সুস্থ।
১০/১২ দিন পরে তাকে কাশের জন্য এক বার ড্রসেরা ২/০ ২ডোজ
দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে কোন সমস্যা নেই।
বিঃদ্রঃ-
#করনা আতঙ্ক নয়, সরকার ঘোষিত নিয়ম মেনে সতর্ক থাকুন।
#সাধারণত সর্দিকাশি জ্বরে ঘরে থেকেই চিকিৎসা গ্রহন করুণ।
#প্রাথমিক অবস্থায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করুন, তরিৎ
সুস্থ হবেন ইনশাআল্লাহ।
#করনা রোগের কোন সুনির্দিষ্ট ওষুধ নেই, লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসায়
আরোগ্যের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী।
#হোমিওপ্যাথিই একমাত্র লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা।
চিকিৎসা -৪
আপনি নিরবে ঘরে বসে আছেন, ভালো লাগছে না। করনা ভাইরাসের
কারনে গৃহবন্দী, প্রতিবেশী জ্বরে আক্রান্ত, দেখতে যেতেও ভয় করছে,
আপনার খুব নিকট আত্মীয় যেতে মন সায় দিচ্ছে না। মানুষ হিসেবে
আপনার প্রাণ কাঁদে, দৈহিক দূরত্ব বজায়ে রেখে অন্য একজন
প্রতিবেশীর কাছ থেকে রোগীর অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারলেন,
গতকাল প্রচণ্ড রোদের সময় বাধ্য হয়ে সে বাজারে গিয়েছিল।
খোলা মাঠে বাজার। দোকানদার সবাই সামাজিক দূরত্ব বজায়ে রেখে
ফাঁকা ফাঁকা ভাবে বসেছে। তাই রোদে দীর্ঘ সময় অবস্থান
করে, তাকে বাজার করতে হয়েছে। বাসায় ফিরে আসার কিছু সময়
পর থেকে তার প্রচন্ড মাথা ব্যথা, সর্দি-হাঁচি-জ্বর শুরু হয়েছে। ৩/৪ঘন্টা
পার হয়ে গেল এখনও জ্বর কমছে না, বরং জ্বরের সাথে অস্থিরতা
ও পিপাসা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঝে মাঝে শরীরে দাহ এবং জ্বালা-পোড়ার
কথা উল্লেখ করছে,। সে তার মাকে বলছে, মা আমার বোধ হয়,
করনা হয়েছে আমি আর বাঁঁচবো না, বাবাকে খবর দাও, হয়তো
সন্ধ্যার পরেই মারা যাবো।" হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে পূর্ব থেকেই
আপনার কিছু ধারনা ছিল, আপনি প্রতিবেশী একজন
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসককে তরিৎ নিয়ে আসতে বল্লেন।
চিকিৎসক এসে সব কথা শুনে তাকে, Aconite nap 2/0 সেবন
করতে দিলেন। পরের দিন আপনি জানতে পারলেন, রোগী ১বার
মাত্র ওষুধ সেবনেই সুস্থ হয়েছেন। চিকিৎসককের পরামর্শ ছিল, ১বার
সেবনের পর সুস্থ মনে হলে আর ওষুধ সেবন করার প্রয়োজন নেই।
শুনে আপনার খুব ভালো লাগলো, ঘরে বসেও আপনি একজনকে
উপকার করতে পারায় আপনার প্রাণটা ভরে গেল। অবশ্যই এটা ঠিক যে,
#লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাই হোমিওপ্যাথির একমাত্র অবলম্বন।
#যে কোন রোগে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসার গুরুত্ব অপরিসীম।
এক্ষেত্রে উল্লেখ যোগ্য যে, রোগ যা-ই হোক যদি দেখা যায়ঃ-
১। আকস্মিকতা ও ভীষণতা, পিপাসা ও জ্বালা।
২। মৃত্যুভয় ও অস্থিরতা।
৩। প্রচন্ড শীতের বা প্রচন্ড গরমের প্রকোপ। ইত্যাদি।
তা'হলে আমরা অবশ্যই Aconite nap দিতে পারি।
(বিঃদ্রঃ অন্য এক রোগীর বাস্তব চিত্র অবলম্বনে ভিন্নভাবে লেখা)
No comments:
Post a Comment